শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

ঢাকার ৬৫ খাল পুনরুদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

ঢাকার ৬৫ খাল পুনরুদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন

ঢাকার বুক চিরে একসময় বয়ে যেত অসংখ্য খাল—জীবন, জীবিকা আর জলপ্রবাহের অনিবার্য সঙ্গী হয়ে। আজ সেগুলোর বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে কংক্রিটের নিচে, স্মৃতির ভাঁজে আর কাগুজে মানচিত্রে। মগবাজার থেকে বাংলামোটর-শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশেছিল পরীবাগ খাল। এটি কেবল জলপথই ছিল না, ছিল শহরের প্রাণপ্রবাহের অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, গুলিস্তান, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার অন্তত ৫০টি ছোট-বড় খাল। কিন্তু গত তিন দশকে দৃশ্যপট বদলে গেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখল আর দূষণের কারণে এসব খাল আজ প্রায় অদৃশ্য। কোথাও সেগুলো পরিণত হয়েছে নর্দমায়, আবার কোথাও ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা।

বর্তমানে ঢাকার বুকে টিকে আছে মাত্র ৬৫টি খাল, তাও নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেকগুলো হয়ে পড়েছে সংকুচিত, নেই পানির প্রবাহ, প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে এর জীববৈচিত্র্যও। এসব খাল পুনরুদ্ধারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তাদের প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-৩৫-এ এক বিস্তৃত রূপরেখা দিয়েছে। ড্যাপের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্যসহ প্রতিটি খাল পুনরুদ্ধারে লাগবে এক-দেড় হাজার কোটি টাকা। তবে যেসব খালে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই সেখানে ব্যয় কম হবে। সব মিলিয়ে ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাকে বাস্তবভিত্তিক করতে এরই মধ্যে একটি সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন ড্যাপের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সমীক্ষায় রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল—কল্যাণপুর, রায়েরবাজার ও রামচন্দ্রপুরকে মডেল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এ তিনটি খালকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হবে অন্তত এক-দেড় হাজার কোটি টাকা করে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধু খনন বা পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে ঢাকার খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, ঢাকার ভেতরে বিদ্যমান প্রায় ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’, অর্থাৎ খাল ও নদীর সমন্বিত জলপথ ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করাই হচ্ছে মূল চ্যালেঞ্জ। এ নেটওয়ার্ক সচল করতে প্রয়োজন হবে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার ব্যয় হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশেষ করে রায়েরবাজার খাল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাবে ভূমি ও ভবন অধিগ্রহণে। কারণ বহু স্থানে খাল দখল হয়ে গেছে বা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ড্যাপসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালের জায়গা দখল করে থাকা স্থাপনা অপসারণ করা ছাড়া পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কোথাও কোথাও খালের প্রস্থ এতটাই কম যে নৌ-চলাচল তো দূরের কথা, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে খাল প্রশস্ত করতে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ ও ভবন অপসারণ প্রয়োজন হবে, যা ব্যয় আরো বাড়িয়ে দেবে।

রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার বাস্তব দিকগুলো তুলে ধরে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ উদ্যোগ কেবল খাল খনন বা পাড় বাঁধাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হবে একটি সমন্বিত নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়া।’ রায়েরবাজার, কল্যাণপুর ও রামচন্দ্রপুর খাল নিয়ে করা সমীক্ষায় খালকেন্দ্রিক জনবান্ধব অবকাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে খালের দুই পাশে মানুষের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, ঢাকায় উন্মুক্ত হাঁটার জায়গার ঘাটতি প্রকট, তাই খালপাড়কে এ দৃষ্টিকোণ থেকেও কাজে লাগাতে হবে।

তবে এক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো জায়গার সংকট। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে খালের ভেতরের অংশ সংকুচিত করে ওয়াকওয়ে নির্মাণের ঝুঁকি থাকে, যা অতীতে ঘটেছে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করেছে। এ সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, ‘খালের সীমানা নির্ধারণে সিএস ম্যাপকে ভিত্তি ধরা হবে এবং তা কোনোভাবেই কমানো হবে না। বরং কোথাও কোথাও নৌ-চলাচল ও পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে খালের প্রস্থ বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যয়বহুল হলেও ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। পুরো শহরের “ব্লু নেটওয়ার্ক” পুনরুদ্ধারে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা একটি এমআরটি লাইনের ব্যয়ের সমপর্যায়ের, যা রাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব নয়।’

ড্যাপের প্রাক্কলন অনুযায়ী, রায়েরবাজার খালে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজন ৯৬৭ কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া খালের ওপর থাকা ভবন পুনরুদ্ধারে ১৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার, খাল খনন ও পাড় বাঁধাইয়ের ক্ষেত্রে ১৩১ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার, নৌঘাট নির্মাণে ৩৪ লাখ ৯ হাজার, এম্ফিথিয়েটার ১২৫ লাখ, ওয়াকওয়ে ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ২৬ হাজার এবং সবুজায়নে ২৮ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে খালটি পুনরুদ্ধারে মোট ১ হাজার ১৪৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রয়োজন। একইভাবে কল্যাণপুর খাল পুনরুদ্ধারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ঢাকার খালগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা। কেননা রাজধানীর খাল সংখ্যা কত সে বিষয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকার খাল নিয়ে কাজ করেছেন গবেষক তরুণ সরকার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকার খালের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নেই। একই খাল অন্য এলাকায় গিয়ে অন্য নাম ধারণ করেছে। আবার একই খালের শাখা কয়েক এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে ঢাকায় জীবন্ত ৬৫টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন আবার ৫৪টি খালের কথা বলছে। ড্যাপে বৃহত্তর ঢাকায় ২১৯টি খালের ম্যাপসহ উল্লেখ আছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধাপে ধাপে এসব খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকার চেহারাই বদলে যেতে পারে। জলাবদ্ধতা কমবে, তাপমাত্রা সহনীয় হবে, আর শহর পাবে নতুন নান্দনিকতা। অনেকেই তুলনা টানছেন ইতালির শহর ভেনিসের সঙ্গে, যেখানে খালই শহরের সৌন্দর্য আর চলাচলের প্রধান মাধ্যম। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এ বিশাল ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? জমি দখলমুক্ত করা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা—সবই যে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার শুধু অবকাঠামোগত বা পরিবেশগত প্রকল্প নয়; এটি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও সুশাসনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। এমনটাই মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তাই খাল পুনরুদ্ধারের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও সামনে এনেছেন—খাল দখলের ইতিহাস ও দখলদারদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ। বণিক বার্তাকে এ নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘সরকার আজ খাল পুনরুদ্ধারে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে, কিন্তু এর আগে প্রয়োজন একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা—এত বছর ধরে এসব খাল কারা দখল করে রেখেছিল? তাই দখলদারদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করতে হবে, যেখানে তাদের পরিচয়, বিশেষ করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন একটি ফরেনসিক তদন্ত; যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যাবে খাল দখল করে তারা কী পরিমাণ আর্থিক লাভ করেছে। যদি এ তথ্যগুলো সামনে আনা যায়, তাহলে খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ দখলদারদের কাছ থেকেই আদায় করা সম্ভব হতে পারে।’

বাস্তবতা যদিও ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো সরকারই খাল, নদী বা প্রাকৃতিক জলাধার দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় না। এমনকি তাদের নিয়ে কোনো শ্বেতপত্রও প্রকাশ করা হয় না। ফলে দখলদাররা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রকাশ্যে প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখে।’

নদীমাতৃক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা একসময় ছিল খাল আর জলাশয়ের শহর। একটি খাল মানে শুধু জলপথ নয়—এটি ঘিরে গড়ে ওঠে মাছ, পাখি, গাছপালা এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যপূর্ণ জগৎ। পরিবেশকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন দশক আগেও পুরো নগরজুড়ে জালের মতো বিস্তৃত ছিল অসংখ্য খাল। কিন্তু ভুল পরিকল্পনা ও অদূরদর্শী উন্নয়নের ফলে সেই জলনির্ভর শহর আজ ক্রমেই পানিশূন্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকায় নিরাপদ পানির সংকট প্রকট। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যেমন সংকট রয়েছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও পর্যাপ্ত পানির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা—তাপমাত্রা বৃদ্ধি। খাল ও জলাশয় ভরাট হওয়ায় স্বাভাবিক গরমেই শহরটি পরিণত হয় ‘হিট আইল্যান্ড’-এ। অন্যদিকে শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ এতটাই বাড়ে যে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় উঠে আসে।

রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল খালকে কেবল পানিপ্রবাহের মাধ্যম হিসেবে দেখা। এ দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই পরীবাগ, পান্থপথ ও সেগুনবাগিচা খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে বক্স কালভার্টে রূপান্তর করে তার ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে খাল মেরে ফেলার ফলে শুধু পানিপ্রবাহই বন্ধ হয়নি; আশপাশের পুরো পরিবেশ ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে। মাছ, পাখি, গাছপালা ও নির্মল বায়ু—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবেই আজকের ঢাকা পরিণত হয়েছে যানজট, ভিড়, দূষণ ও রোগব্যাধির শহরে।’

ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে বাঁচাতে হলে বিদ্যমান খালগুলোকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বহুগুণে ফিরে আসবে পরিবেশগত ভারসাম্য, জনস্বাস্থ্য ও নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে।’

রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধারে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা ও পুরান ঢাকার যেসব খাল পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। তবে এ খালগুলো ফিরিয়ে আনা না গেলে অন্য খাল ও নদী পুনরুদ্ধারের সুফলও মিলবে না।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ড্যাপে একটি কার্যকর মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, শাহবাগের মতো যেসব এলাকায় খাল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে, সেখানে সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হবে। কিছু সড়ক একমুখী করে দেয়া হবে, আর অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নতুন করে খাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নৌপথে সহজে যাতায়াত সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শহরে উন্নত মানের নৌপথ, এমআরটি ও সড়কপথ—এ তিনটি পরিবহন ব্যবস্থা সমান্তরালভাবে চালু থাকবে। তাতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে যানজট। সেই সঙ্গে খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ঢাকার পরিবেশগত অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার খালগুলোর মালিক আগে ছিল ওয়াসা, এখন সিটি করপোরেশন। সব সংস্থার সমন্বয়ে খাল পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে এরই মধ্যে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ খালগুলো উদ্ধার করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের মিটিংও হয়েছে। তিনি খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।’

Link copied!