রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে জেনেভায় ওএইচসিএইচআরের কাছে আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে।

হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের  সহায়তা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সহযোগিতা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ওএইচসিএইচআরের কাছে আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল দিয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজের পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোট ভারবালে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেছে সরকার। জেনেভার বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, ওএইচসিএইচআর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্র তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট সড়কে ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের জন্য চিঠি পাঠানোর দাবিতে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, তাদের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক আহত হন।

পরে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে– শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে।

পরে ফেসবুক লাইভে রোববার পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার ওইদিন জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছে। চিঠিতে তারা কী লিখেছে, তা আমাদের দেখতে হবে। কোনো ধরনের ছলচাতুরী মার্কা চিঠি পাঠানো যাবে না।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে এবং এটি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, রাষ্ট্রকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে আমাদের কাছে দ্বিতীয় বিকল্প নেই। আজ আমাদের গুলি করেছেন, কালকে প্রয়োজনে আমাদের মেরে ফেলেন। কিন্তু শহীদ ওসমান হাদির বিচার বাংলার জমিনে হতেই হবে।

জাবের আরও বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফের লড়াইয়ের জন্য শরিফ ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। আমাদেরও শাহাদাত বরণ করতে হলে, আপনারা ইনসাফের এই লড়াইকে কোনোভাবে থামিয়ে দেবেন না। বাংলাদেশের আজাদিকে টিকিয়ে রাখতেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

Link copied!