প্রকাশিত: : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। নিবন্ধিত ৫,৯৯০ বন্দির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪,০৬৭ জন ভোট দিয়েছেন, শেষ দিনে বাকি বন্দিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কারান্তরীণ ব্যক্তিরা। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন গণভোটেও। ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৬৭ জন। এদিকে কারাগার থেকে ভোট দিলেন বিগত সরকারের সালমান এফ রহমান, আনিসুল হোক, পলক সহ একাধিক আওয়ামী নেতৃবৃন্দ।
কারা সূত্র জানায়, শনিবার শেষ দিনে নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট না দিলে তাদের ভোট বাতিল হয়ে যাবে। সূত্র মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদসহ মোট ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা সবাই কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ঢাকা বিভাগ দুটি অংশে বিভক্ত। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতাভুক্ত। গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার চারটি কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় রয়েছে। ঢাকা বিভাগ-১-এর অধীনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ৫৮ জন, বিশেষ কারাগারে ৮৯ জন, ফরিদপুরে ৫২ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২৭ জন, রাজবাড়ীতে ৯৬ জন, মাদারীপুরে ২৬ জন, গোপালগঞ্জে ৩৩ জন এবং শরীয়তপুরে সাতজন নিবন্ধন করেছেন। এ বিভাগে মোট নিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৬।
ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় কাশিমপুর-১ কারাগারে ১৬১ জন, কাশিমপুর-২-এ ১৪১ জন, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ৬০ জন, হাই সিকিউরিটি কারাগারে ৬২৯ জন, টাঙ্গাইলে ৮১ জন, কিশোরগঞ্জ-১-এ ১৫ জন, গাজীপুরে ৩৪ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন এবং মানিকগঞ্জে ৩৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এ বিভাগে মোট নিবন্ধনের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৩। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ২ জন, খুলনা বিভাগে ৬৮০ জন, রংপুর বিভাগে ৩১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৮৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫৬৮ জন বন্দি।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার থেকে ভোট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক বন্দিকে একটি প্যাকেটে তিনটি খাম দেওয়া হচ্ছে। একটি খামে নির্দেশনাসহ সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার, আরেকটি খামে গণভোটের জন্য "হ্যাঁ" অথবা "না" ভোটের ব্যালট পেপার রাখা হচ্ছে। দুটি ব্যালট পেপার একটি বড় খামে ঢুকিয়ে আঠা লাগিয়ে সিল করতে হবে। সিল করা খাম ছেঁড়া ছাড়া খোলা সম্ভব নয়। বন্দিরা খামগুলো কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে। ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করবে। তিনি বলেন, শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বন্দিরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। ৫ জানুয়ারি নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়। ওই দিন দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ৩৮০টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকিরা নিবন্ধন করেননি।