বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল ‍‍`চিকেনস নেক’ করিডোরে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন করবে ভারত

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত রাখা কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল ‍‍`চিকেনস নেক’ করিডোরে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন করবে ভারত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা ‍‍`চিকেনস নেক‍‍` নামে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোরে খুব শিগগিরই ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা দেন।

সবচেয়ে সরু অংশে এই করিডোর মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। একে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করা হয়। এ করিডোরের চারপাশে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ অবস্থিত; আর কয়েকশো কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে চীনের সীমান্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে ঢাকার চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণেও ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটের বরাদ্দ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় বৈষ্ণব বলেন, ‍‍`উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত করা ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডোরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন এবং বর্তমান লাইনগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে।‍‍`

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ভূগর্ভস্থ এই অংশটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, ‍‍`নিরাপত্তার দিক থেকে এই ভূগর্ভস্থ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‍‍`

এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেললাইনগুলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০-২৪ মিটার গভীরে স্থাপন করা হবে। বর্তমানে বিদ্যমান দুই লেনের রেললাইনকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে কৌশলগত এই করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—যার মধ্যে চারটি থাকবে মাটির উপরে, দুটি মাটির নিচে।

ভারতের জন্য এই করিডোর দীর্ঘকাল ধরেই একটি দুর্বল জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা ও সৈন্য চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

Link copied!