প্রকাশিত: : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সরাসরি মোতায়েন, ড্রোন নজরদারি ও দ্রুত লজিস্টিক সহায়তায় নির্বাচনি নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে নতুন আকাশভিত্তিক সক্ষমতা।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আকাশপথের ব্যবস্থায়। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সরাসরি মোতায়েন, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং ড্রোনভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে কৌশলগত `ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার` সক্ষমতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শুধু স্থলভিত্তিক টহল বা চেকপোস্টের ওপর নির্ভর না করে আকাশপথেও নজরদারি ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের বিএএফ ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্রিফিং ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাচনে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী কাজ করলেও এবারের নির্বাচনে বিমানবাহিনীর ভূমিকা হবে সময় ও দক্ষতা বাড়ানো।
তারা জানান, তিনটি ক্ষেত্রে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দ্রুত মোতায়েন ও লজিস্টিক সহায়তা- দুর্গম এলাকা, উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে স্বল্প সময়ে জনবল ও সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। দ্বিতীয়ত, আকাশ নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ- ড্রোনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বা সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা আগাম শনাক্ত করা যাবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তৃতীয়ত, জরুরি সাড়া প্রদান—সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এয়ার সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ২৫০ জন বিমান সেনা। বাকি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ জেলার ৩৫ উপজেলায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং পুরো সময়জুড়ে `মোবাইল রেসপন্স সিস্টেম` হিসেবে কাজ করবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও বিশেষায়িত ইউনিট, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী একই কমান্ড কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর অপারেশন পরিচালনা সহজ হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা থাকায় বিমানবাহিনী প্রধান পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্রিফিংয়ে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্থলবাহিনীর সঙ্গে আকাশ সক্ষমতার এই সমন্বয় নির্বাচনি নিরাপত্তায় দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।