বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

‘গিভ টু গেইন’ প্রতিপাদ্যে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : মার্চ ৯, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ঢাকার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষকদের অবদানকে সম্মান জানানো হয় এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা নারীর ক্ষমতায়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

‘গিভ টু গেইন’ প্রতিপাদ্যে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত

ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২৪: যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর স্বাধীনতা টাওয়ারে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা ও অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে এবং জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে দিবসটির তাৎপর্য ও এবারের মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন স্কুল অব হেলথ সায়েন্সেসের ডিন এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজিয়া ইয়াসমিন।

নাজিয়া ইয়াসমিন বলেন, “নারী দিবস কেবল একটি দিবসই নয় বরং এটি নারীদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মারক। এবারের প্রতিপাদ্য ‘গিভ টু গেইন’ আমাদের শেখায় যদি আমরা যখন একে অপরকে সুযোগ করে দিই এবং সম্মান জানাই তখন সমাজ ও জাতি হিসেবে আমাদের অর্জন বহুগুণ বেড়ে যায়।” তিনি বর্তমান সমাজে নারীদের অবস্থান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্রও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘নারীদের কর্মক্ষেত্র ও বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনা। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাসান কাউসার তাঁর বক্তব্যে নারীদের আর্থিক ও মানসিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতার প্রশংসা করেন।

ড. মোহাম্মদ হাসান কাউসার বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারার যেমন আর্থিক সংকট সামাল দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, ঘরের ট্রেজারার তথা নারীরাও তেমনি পরিবার ও সমাজকে পূর্ণতা দান করেন। নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক।”


স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন এবং আর্কিটেকচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ আলী নকি তার বক্তব্যে বেগম রোকেয়ার দর্শনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “পৃথিবীতে নারী ও পুরুষকে আলাদা সত্তা হিসেবে দেখার চেয়ে ‘মানুষ’ ও ‘প্রকৃতি’ হিসেবে দেখা জরুরি। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই নারীত্ব ও পুরুষত্বের গুণাবলি বিদ্যমান।” তিনি লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “নারীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সহযোগিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক নয়। আমাদের উচিত নারীদের ছোট ছোট সাফল্যকেও উদযাপন করা এবং তাদের জন্য সহযোদ্ধা হিসেবে পথ প্রশস্ত করা। নারীদের সফলতায় প্রাণখুলে হাততালি দেওয়ার মানসিকতা আমাদের সমাজকে আরও উন্নত করবে।”

আলোচনা সভা ছাড়াও দিনটি উদযাপনে ছিল বৈচিত্র্যময় আয়োজন। জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক সায়দুন্নেছা লিমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘মেসেজ পাসিং’, ‘ট্রুথ অ্যান্ড মিথ’ এবং ‘সারপ্রাইজ গেম’ এর মতো মজাদার খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন গেম ও সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।  

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান ও কবিতার ছন্দে অনুষ্ঠানটি এক মনোজ্ঞ রূপ নেয়। সবশেষে নারী সহকর্মীদের মাঝে উপহার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সর্বদা নারী-বান্ধব কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে এবং নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

Link copied!