প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তায় কিছুটা উন্নতি হলেও ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার’ মধ্যে ছিল দেশের দেড় কোটির বেশি মানুষ। একইসঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব সবচেয়ে তীব্র এমন ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশেরও ঠাঁই হয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস (জিআরএফসি)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ছিল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই বছরে গাজা উপত্যকা ও সুদান এই দুই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ (জিআরএফসি) শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনুপস্থিতি, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যহীনতায় ভুগেছে।
এর মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ‘সংকটজনক পর্যায় ৩’-এ ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ‘জরুরি পর্যায় ৪’-এর স্তরে ছিল, যা চরম খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে উচ্চমাত্রার খাদ্যহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৬ লাখ কমলেও জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে এই উন্নতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার অভাব যে ১০ দেশে সবচেয়ে তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ সেই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে। তালিকার অন্য দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে একটি ‘মাঝারি’ মানের পুষ্টি সংকটের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির চেয়ে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক।
বিশ্বে সর্বাধিক বাস্তুচ্যুতির শিকার হওয়া ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এর উপরে রয়েছে কেবল সুদান ও সিরিয়া। বিশেষ করে বন্যা এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে সারের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর খাদ্য সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববাসীকে দ্রুত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।