প্রকাশিত: : জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভবনে থাকবে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট আয়তনের মোট ৭২টি ফ্ল্যাট। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার বরাদ্ধ। মন্ত্রীপাড়া হিসেবে পরিচিত রাজধানীর বেইলি রোড এবং মিন্টো রোডে হবে নতুন নির্মিত তিনটি ভবন। প্রকল্পে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপাড়ায় বর্তমানে মন্ত্রীদের জন্য ১৫টি বাংলোবাড়ি রয়েছে। বেইলি রোডে `মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট` নামে তিনটি ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট আছে, প্রতিটির আয়তন সাড়ে ৫ হাজার বর্গফুট। গুলশান ও ধানমন্ডিতেও মন্ত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ঢাকায় মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য মোট ৭১টি বাংলোবাড়ি ও ফ্ল্যাট প্রস্তাব করা আছে। ফলে মন্ত্রীদের আবাসন সংকট না থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ৭২টি বড় ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মতিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক বাংলো ও ফ্ল্যাট খালি ছিল। সেখানে সাংবিধানিক পদধারীদের কেউ কেউ থাকছেন। তাদের মন্ত্রিপাড়ায় থাকার অনুমতি সরকার দিয়েছে। সূত্র জানায়, নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্পে আমলাদের আগ্রহ বেশি। মন্ত্রীদের নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে বর্তমান বড় ফ্ল্যাটগুলো আমলাদের জন্য খালি হবে। সাংবিধানিক পদধারীদের জন্য আলাদা আবাসন থাকলেও কেউ কেউ মন্ত্রিপাড়ায় থাকছেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাহী বিভাগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক সংস্থার ব্যক্তিদের একই স্থানে বসবাস না করাই ভালো, এতে প্রভাবের সুযোগ থাকে। তিনি বলেন, দেশে যেখানে চার কোটি মানুষ দুই বেলা খাবার পায় না, সেখানে এত বড় ফ্ল্যাট নির্মাণ বেমানান।
প্রকল্পটির নাম `ঢাকাস্থ রমনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ৩টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ`। ৮ জানুয়ারি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নথি অনুযায়ী, বেইলি রোডের ২০ ও ২১ নম্বর বাংলোবাড়ির স্থানে দুটি এবং মিন্টো রোডের ৩৫ নম্বর বাংলোবাড়ির স্থানে একটি ভবন নির্মাণ হবে। প্রতিটি ভবন হবে ১১ তলা। বেইলি রোডের ভবনে ১৮টি করে ৩৬টি ফ্ল্যাট (৯ হাজার ৩০ বর্গফুট) এবং মিন্টো রোডে ৩৬টি ফ্ল্যাট (৮ হাজার ৫০০ বর্গফুট) থাকবে। বড় ফ্ল্যাটগুলো মন্ত্রীদের জন্য, অন্যগুলো প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সাংবিধানিক পদধারীদের জন্য। ফ্ল্যাটের একাংশ কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য হবে। প্রকল্পে জিমনেশিয়াম, কমিউনিটি স্পেস ও ছাদে সুইমিংপুলের প্রস্তাব রয়েছে। সুইমিংপুলের সরঞ্জামের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। তিন ভবনে আসবাব ও পর্দা কেনার জন্য ২০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপাড়ায় বর্তমানে থাকা ফ্ল্যাটগুলোর আয়তন পাঁচ হাজার বর্গফুট। সেখানে চারটি বড় শয়নকক্ষ, অফিস কক্ষ, ড্রয়িংরুম, লিভিংরুম, ডাইনিং, রান্নাঘর ও ছয়টি টয়লেট রয়েছে। কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আনসার পাহারা থাকে। অন্যদিকে বিচারপতিদের জন্য কাকরাইলে `জাজেস কমপ্লেক্স` নামে ২০ তলা ভবনে ৭৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে, প্রতিটির আয়তন সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট। সেখানে ২৪টি ফ্ল্যাট খালি। সচিবদের জন্য ইস্কাটনেও বহুতল ভবন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একই কমপ্লেক্সে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক সংস্থার ব্যক্তিদের আবাসনের ক্ষেত্রে আইনি বাধা না থাকলেও তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও সুশাসনের পথে অন্তরায় হতে পারে। নৈতিকতার মানদণ্ডে এ ধরনের ব্যবস্থা পরিহারযোগ্য।