প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
দীর্ঘ দুই দশক পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সভাপতি নির্বাচন দেখল রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আরও এক মেয়াদের জন্য ক্লাবটির সভাপতির দায়িত্ব ধরে রাখলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
ক্লাবের সভাপতি নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পেরেজ। তার পক্ষে পড়েছে ২১ হাজার ৭৪১টি ভোট। রিকেলমে পেয়েছেন ১১ হাজার ৮১৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৫ শতাংশ।
আরও একবার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়ে পেরেজ বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের নির্বাচনের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সেরা ফল। এটি অসাধারণ একটি অর্জন। আজ জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আমরা বিশ্বকে গণতন্ত্রের একটি উদাহরণ দেখিয়েছি। রিয়ালের জন্য কাজ করে যাব, যাতে ক্লাবটি আরও ট্রফি জিততে পারে।’
২০০৯ সাল থেকে রিয়ালের সভাপতি পেরেজ। এর আগে ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও তিনি একই দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে রিয়াল জিতেছে ৭টি ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ৭টি লা লিগা শিরোপা। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ সাফল্য এসেছে ২০২২ ও ২০২৪ সালে।
টানা দুই মৌসুম বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারার পর সদস্যদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যেই হঠাৎ নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন পেরেজ। সেটিই শেষ পর্যন্ত তাকে বড় ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছে।
২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম রিয়াল মাদ্রিদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ২০০৯, ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন পেরেজ।
নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই বেশ কিছু বড় ঘোষণা দিয়েছিলেন পেরেজ। জয়ী হলে হোসে মরিনিয়োকে আবার কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ইব্রাহিমা কোনাতে ও ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলেন।
এমনকি আগামী মঙ্গলবার ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচে এক ‘গ্যালাকটিকো’ আক্রমণভাগের তারকাকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
২০০০ সালে লরেঞ্জো সান্সকে হারিয়ে প্রথমবার রিয়ালের সভাপতি হন পেরেজ। সে সময় বার্সেলোনার তারকা লুইস ফিগোকে দলে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েই আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
পরে দায়িত্ব পেয়ে জিনেদিন জিদান, রোনালদো নাজারিও ও ডেভিড বেকহামের মতো তারকাদের এনে ক্লাবের ইতিহাসে ‘গ্যালাকটিকো’ যুগের সূচনা করেন। যদিও দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে ২০০৬ সালে পদত্যাগ করেছিলেন।
২০০৯ সালে রামোন কালদেরনের বিদায়ের পর আবার এই দায়িত্বে ফিরে আসেন পেরেজ। তার আমলে ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে রিয়াল।
নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের মালিকানা কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন পেরেজ। সদস্যদের অনুমোদন সাপেক্ষে ক্লাবের ৫ শতাংশ মালিকানা কোনো বাহ্যিক বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে তার।