বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘শটস’ পরে অফিসে টোকিওর সরকারি কর্মীরা

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

জাপানে কর্মক্ষেত্রে সাধারণত ফরমাল পোশাক বা স্যুট-টাই পরার কড়াকড়ি থাকে। কিন্তু এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। তীব্র দাবদাহ এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের কর্মীরা এখন শর্টস পরে অফিসে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘শটস’ পরে অফিসে  টোকিওর সরকারি কর্মীরা

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জাপান তার চাহিদার ৯০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এসি ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেই টোকিও কর্তৃপক্ষ এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি জাপানের ২০০৫ সালে শুরু হওয়া ‘কুল বিজ’ কর্মসূচিরই একটি বর্ধিত রূপ।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি দফতরে কর্মীদের টি-শার্ট, পোলো শার্ট এবং শর্টস পরে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের এক কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো শর্টস পরে অফিসে এসেছেন। তিনি স্থানীয় ইয়োমিউরি শিমবুন পত্রিকাকে বলেন, ‘শুরুতে একটু দ্বিধা থাকলেও এখন বিষয়টি খুব আরামদায়ক মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এতে কাজের দক্ষতাও বাড়বে।’

দুই দশক আগে ‘কুল বিজ’ প্রচারাভিযানের নেপথ্যে ছিলেন টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার যে পরিস্থিতি, তাতে আমরা আরামদায়ক পোশাক যেমন- পোলো শার্ট, টি-শার্ট, স্নিকার্স এবং কাজের ধরন অনুযায়ী শর্টস পরে আসার পরামর্শ দিচ্ছি।’

শুধু টোকিও নয়, জ্বালানি সাশ্রয়ে ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িতে বসে কাজ করা বা কর্মঘণ্টা কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

১৮৯৮ সালের পর গত বছর জাপানে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে তাপমাত্রা অনায়াসেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই চরম যে আবহাওয়া অফিস ‘নিষ্ঠুর গরম’ নামে নতুন একটি সতর্কবার্তা চালু করেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ১৯৭০-এর দশকের মতো পেট্রোল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর কাটছাঁটের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Link copied!