বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

ইসরায়েলের দ্রুত প্রতিক্রিয়া গাজার ২৩ লাখ মানুষের ওপর ‘নির্মূল অভিযানে’ পরিণত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে অভিযোগ ওঠে। এতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত ৭৭৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন

গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি

ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ থেকে গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ১০ বছরে ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের ‘গাজা র‌্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্ট (আরডিএনএ)’ শীর্ষক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

গতকাল প্রকাশিত যৌথ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংঘাত মানব উন্নয়নের ওপর ‘বিপর্যয়কর প্রভাব’ ফেলেছে এবং দ্রুত বিপুল অর্থের চাহিদার মুখে অঞ্চলটিকে ঠেলে দিয়েছে।

গাজার জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে প্রথম ১৮ মাসেই ২ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

গাজায় ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির অনুমিত আকার ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে অঞ্চলটি ২ হাজার ২৭০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

গাজায় অক্টোবর থেকে একটি ভঙ্গুর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর চুক্তিটি হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দ্রুত প্রতিক্রিয়া গাজার ২৩ লাখ মানুষের ওপর ‘নির্মূল অভিযানে’ পরিণত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে অভিযোগ ওঠে। এতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত ৭৭৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

গাজার সরকারী মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ২ হাজার ৪০০টি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গ্রেপ্তার, অবরোধ ও খাদ্য সংকট সৃষ্টি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখে টনেরও বেশি ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পুরো জনপদগুলো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে।

আরডিএনএ অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলের ৫০ শতাংশেরও বেশি হাসপাতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং প্রায় সব বিদ্যালয় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মানুষ একাধিকবার আশ্রয় হারিয়েছেন। জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত হলো আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত গাজার মানব উন্নয়নকে ৭৭ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘ ও ইইউ উভয়ই বলেছে, গাজার পুনর্গঠন ‘ফিলিস্তিন নেতৃত্বাধীন’ হতে হবে। এমন একটি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হতে হবে যা ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসনব্যবস্থা হস্তান্তরের রূপান্তরকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে’। একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে দেয়া একটি ইঙ্গিতের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা ধরা যেতে পারে। যেখানে তিনি বলেছিলেন গাজাকে পরিষ্কার করে ভূমধ্যসাগরের পাশে একটি রিসোর্ট হিসেবে পুনর্গঠন করা যেতে পারে।

Link copied!