প্রকাশিত: : মার্চ ৯, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের টানা হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে; তেলের ডিপোতে হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে, আর ভয় ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
যুদ্ধের টানা হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান এখন প্রায় জনশূন্য। শহরটি অনেকটাই মহামারির সময়কার দিনের মতো ফাঁকা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক বাসিন্দা। তিনি বিবিসিকে বলেন, ব্যস্ততম ইরানশাহর স্ট্রিটের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ রয়েছে।
ওই বাসিন্দার ভাষ্য, "পরিস্থিতিটা অদ্ভুত—কিছুটা মহামারির সময়ের মতো। মানুষ ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। কেউ জানে না সামনে কী ঘটবে। তবে আমাদের বিশ্বাস, একদিন না একদিন এই পরিস্থিতির শেষ হবে এবং জীবন আবার স্বাভাবিক হবে।"
এদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আগুন লাগে। ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে যাওয়ায় তেহরানের বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেনগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে রাস্তার পাশ যেন আগুনের স্রোতে পরিণত হয়েছে।
`লিভিং ইন তেহরান` নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতেও রাজধানীর একটি সড়কের পাশে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, পাঁচ দিন পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নাফত স্ট্রিট দিয়ে হাঁটেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে সেখানে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল। এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে তাঁকে থামানো হয়নি। তাঁর ভাষায়, কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট পুরোপুরি নিস্তব্ধ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ছয় হাজারের বেশি মানুষ। এদিকে ইরানের প্রায় পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাই বন্ধ রয়েছে এবং নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এসব অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির ১৭৪টি শহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বহু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।