প্রকাশিত: : জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
চরমপন্থার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুদান বন্ধ করেছে ইউএই; ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চরমপন্থা ও উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুদান কর্মসূচি সীমিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত আমিরাতের শিক্ষার্থীরা ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর, বিশেষ করে মুসলিম ব্রাদারহুডের, প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন—এমন উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে আসছে। আমিরাতের দাবি, যুক্তরাজ্যের ক্যাম্পাসগুলোয় এই গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে, যা তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উগ্র ভাবাদর্শ ছড়াতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে আমিরাতের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত চায় না তাদের সন্তানরা বিদেশের ক্যাম্পাসে চরমপন্থার শিকার হোক।‘
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য দেয়া ইউএই সরকারের শিক্ষাবৃত্তি—যার আওতায় টিউশন ফি, আবাসন ও অন্যান্য খরচ বহন করা হতো, তা আর প্রদান করা হবে না। তবে এটি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়। যারা নিজ খরচে পড়াশোনা করতে চান, তারা আগের মতোই সেখানে যেতে পারবেন।
২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’এর পর মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় ইউএই। ওই সময় ইসলামপন্থী আন্দোলনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে সরকার পতন ঘটে এবং সিরিয়া ও লিবিয়াসহ কয়েকটি দেশ দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ইউএই নিজ দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে রাশিয়া, মিসর, সৌদি আরব, জর্ডানসহ বেশ কয়েকটি দেশ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সেও বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনা ও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।