প্রকাশিত: : মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়– ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী; যদিও বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী– না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, ‘এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে– আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন– তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কিনা।’ আমির হামজা বলেন, ‘আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।’
ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, ‘এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন, আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।’
এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাঁকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এ বক্তব্যের বিষয়ে মুফতি আমির হামজা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, যেটা বলেছেন সেটা সঠিক। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না। তবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, ‘এমপি আমির হামজা যে কথা বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। দল এর সঙ্গে একমত নয়। আমরা রাজনৈতিক সৌজন্যে বিশ্বাসী।’