প্রকাশিত: : মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের আড়ং শোরুম থেকে মায়ের জন্য কেনা কাপড় শপিং ব্যাগ ছাড়া হাতে করেই নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রুমিন ফারহানা। শপিং ব্যাগ না পাওয়া এবং অতিরিক্ত মূল্য চাওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের আড়ং-এর শোরুম থেকে মায়ের জন্য কাপড় কিনে শপিং ব্যাগ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাসায় ফিরলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাতে করে কাপড় নিয়ে বাসায় ফেরার এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ শনিবার (১৪ মার্চ) বিকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা হাতে করে বেশ কয়েকটি কাপড় নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে যা হলো তা নিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে গিয়ে এর আগেও বহুবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু আজ অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। একজন সংসদ সদস্যকে এতটুকো সম্মান দেখানো উচিত ছিল তাদের।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা গ্রাহকরা টাকা দিয়ে পণ্য কিনবো। কিন্তু সেই পণ্য বহন করার জন্য একটি সাধারণ শপিং ব্যাগও পাবো না, এটা কেমন নিয়ম? পরিবেশ রক্ষার কথা বলে যদি শপিং ব্যাগ বন্ধ করা হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাও তো থাকতে হবে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকের সুবিধার চেয়ে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াটাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। একটা ব্র্যান্ড যখন মানুষের ভালোবাসা আর আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেই ব্র্যান্ডের দায়িত্বও থাকে গ্রাহকের প্রতি সম্মান দেখানোর। আমি মনে করি,
গ্রাহকের ন্যূনতম সম্মান নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গ্রাহকের কষ্ট যেন অবহেলার বিষয় না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শনিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ ইফতারের পর উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের আড়ং-এর শোরুমে যাই। মায়ের জন্য চারটি কাপড় কিনি। কাউন্টারে যাওয়ার পর সাড়ে চার হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দিয়ে কোনও ব্যাগ ছাড়াই কাপড় বুঝিয়ে দেয়। কাউন্টার থেকে বলা হয়, কাপড় নেওয়ার ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে।’ তখন প্রশ্ন করি, কেন কাপড়ের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে? অদ্ভুত কথা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাপড়গুলো হাতে করে নিয়ে বাসায় আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মায়ের জন্য ম্যাক্সি কাপড় কিনতেই আড়ংয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ মায়ের যে ম্যাক্সির মাপ তা আড়ংয়ের সঙ্গে মিলে যায়। অন্য দোকানে মিল পাওয়া যায় না। সে কারণে আড়ংয়ে যাওয়া। না হলে জীবনেও আড়ংয়ে যেতাম না। আমি নিজের জন্য কোনোদিন আড়ং থেকে কাপড় কিনি নাই।’
এ বিষয়ে জানতে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের আড়ং-এর শোরুমের টিঅ্যান্ডটি নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।