শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬

মক্কায় বিমানবন্দর তৈরী করতে যাচ্ছে সৌদি সরকার

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

মক্কায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব, যা হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বড় পরিবর্তন আনবে।

মক্কায় বিমানবন্দর তৈরী করতে যাচ্ছে  সৌদি সরকার

পবিত্র মক্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে সৌদি আরব। ‘রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটসের’ (RCMC) সিইও ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আল-রশিদ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা নিশ্চিত করেছেন।

হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ অ্যারাবিয়ার এক সাক্ষাৎকারে সালেহ আল-রশিদ জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর কৌশলগত দিকনির্দেশনাগুলোও অনুমোদিত হয়েছে। মক্কার উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে আসা এটিই এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।সালেহ আল-রশিদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মক্কায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের গভীর সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত দিকনির্দেশনাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত।বিমানবন্দরটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং পরিচালনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর মডেলটি নির্ধারণ করতে ‘রয়্যাল কমিশন’ (RCMC) বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে।

এই বিমানবন্দর মূলত মক্কার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিবছর আসা লাখ লাখ হজ ও ওমরাহর যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে নতুন এই বিমানবন্দর জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

কয়েক দশক ধরে সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মক্কায় বিমানবন্দর নির্মাণের ধারণাটি নাকচ করে আসছিল। ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পবিত্র কাবার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের অনুমতি না থাকায় মক্কার সীমানার ভেতরে বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না।

বর্তমানে আকাশপথে আসা হজ ও ওমরাহর যাত্রীদের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মক্কায় পৌঁছাতে ৮০-৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ এই যাত্রা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি যাতায়াত ব্যবস্থায় যোগ করে বাড়তি জটিলতা। মক্কায় নিজস্ব বিমানবন্দর নির্মিত হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

Link copied!