রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গাজা নিয়ে জুরির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন করলেন অরুন্ধতী রায়

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:১৮ এএম

গাজা ইস্যুতে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বোর্ডের মন্তব্য ও জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ালেন বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায়।

গাজা নিয়ে জুরির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন করলেন অরুন্ধতী রায়

জার্মানিতে চলমান বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (বার্লিনাল) থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত বুকারজয়ী লেখক ও সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায়। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উৎসবের জুরি সদস্যদের বিতর্কিত মন্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‍‍`দ্য ওয়্যার‍‍`-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবে না যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় উৎসবের জুরি বোর্ডের প্রধান, জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স ও পোলিশ প্রযোজক ইওয়া পুসজিনস্কার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সংবাদ সম্মেলনে জুরি সদস্যরা মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত এবং সিনেমা সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে না। অরুন্ধতী রায় এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যখন চোখের সামনে গণহত্যা চলে, তখন ‍‍`শৈল্পিক নিরপেক্ষতা‍‍`র কথা বলা মূলত অপরাধ আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র। তাঁর মতে, শিল্পীদের নৈতিক দায়িত্ব হলো এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

এবারের উৎসবে অরুন্ধতী রায়ের চিত্রনাট্য লেখা ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‍‍`ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস‍‍` প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং তাতে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদে তিনি এই আয়োজনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অরুন্ধতী স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর যা ঘটছে তা একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং জার্মানি এই অপরাধের অন্যতম সহযোগী।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল শিল্পের স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং শুদ্ধ নৈতিকতার লড়াই। যদি সময়ের শ্রেষ্ঠ নির্মাতারা এমন মানবিক সংকটে নীরব থাকেন, তবে ইতিহাস তাঁদের ক্ষমা করবে না। গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি উৎসব বর্জনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই জার্মানির অবস্থান, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘ দিন ধরেই সমালোচনা চলছে।

Link copied!