শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

দেশের ১০,৭৪০ স্কুলে নেই খেলার মাঠ, বাড়ছে শিশুদের মোবাইল আসক্তি

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

দেশের ১০,৭৪০ স্কুলে নেই খেলার মাঠ, বাড়ছে শিশুদের মোবাইল আসক্তি

দেশের ১০ হাজার ৭৪০টি স্কুলে কোনো খেলার মাঠ নেই। মাঠের অভাবে শিশুরা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে, ফলে তাদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে জানিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর আসর আয়োজিত ‍‍`শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ‍‍` শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।

সংগঠনটির ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেনিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‍‍`দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ শিশু হলেও তাদের নিরাপদ ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ধর্ষণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও শিশুশ্রমের মতো নানা সংকটে শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।‍‍`

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দেশে ৪০৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে ভয়ভীতি, পারিবারিক লজ্জা ও সামাজিক চাপে অনেক ঘটনাই প্রকাশ পায় না। বিশেষ করে ছেলেশিশু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনাই রিপোর্ট করা হয় না।

এ ছাড়া প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি শিশু মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার বলে উল্লেখ করা হয়। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৮ শতাংশ অপুষ্টিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‍‍`বর্তমান শিক্ষাক্রমে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি।‍‍`

তিনি আরও বলেন, ‍‍`এমন একটা শিক্ষাক্রম বানিয়েছি, যেই শিক্ষাক্রমে শিশুদের মানসিক কিংবা অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নের জায়গা রাখা হয়নি।‍‍`

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‍‍`শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য শুধু শারীরিক পুষ্টি নয়, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।‍‍`

তিনি শিশুদের জন্য সৃজনশীল ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বর্তমান শিক্ষাক্রমকে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, সাদিয়া আরমান এবং শিশু প্রতিনিধি আদ্রিতা রায়।

Link copied!