শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

৩ সপ্তাহ দেখা পাচ্ছেন না স্বজনরা, ইমরান খানের স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কা

টিএনসি ডেস্ক

প্রকাশিত: : নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

৩ সপ্তাহ দেখা পাচ্ছেন না স্বজনরা, ইমরান খানের স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাকে পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘ এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে তার স্বাস্থ্যে নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জানিয়েছে দলটি।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী রয়েছেন ইমরান খান। দুর্নীতির মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরানের অভিযোগ, তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতেই সেনাবাহিনীর ইশারায় ডজনখানেক ‍‍`মিথ্যা মামলা‍‍` সাজানো হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বরের পর থেকে ইমরান খানকে আর কেউ দেখেননি। কেন সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সে সম্পর্কেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।


রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি বলেন, ‍‍`তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা শঙ্কিত। তাকে যেভাবে বেআইনিভাবে বিচ্ছিন্ন (আইসোলেশন) করে রাখা হয়েছে, তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।‍‍` তিনি অবিলম্বে সরকারের কাছে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইমরান খান কোথায়?

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন তার পরিবার ও দলীয় কর্মীরা। জেল কোড অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত একদিন বন্দীর সঙ্গে দেখা করার নিয়ম থাকলেও, জেল কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তা বাতিল করে দিচ্ছে। দলের অভিযোগ, এর আগেও টানা কয়েক সপ্তাহ তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে—৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেট তারকাকে হয়তো আরও কঠোর নিরাপত্তার কোনো কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, যাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‍‍`এক্স‍‍`-এ ‍‍`#WHEREISIMRANKHAN‍‍` (‍‍`ইমরান খান কোথায়‍‍`) হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন এবং তাকে অন্য কোনো কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন ইমরান খান। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই তার এই পতন হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে তার দল একক সর্বাধিক আসন পেলেও, তারা অভিযোগ তোলে—কারচুপির মাধ্যমে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Link copied!